আইভরি কোস্টে বাড়ছে কোকোর মজুদ

বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্ট। বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাবে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি কমেছে।

বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্ট। বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাবে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি কমেছে। এতে আইভরি কোস্টের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দুয়েকুয়েসহ অন্যান্য অঞ্চলের গুদামগুলোয় প্রধান মৌসুমের কোকোর মজুদ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

আইভরি কোস্টের দুয়েকুয়ে শহরের সমবায়ী সেকু দাগনোগোর গুদামে কোকোর বস্তা এখন ছাদ ছুঁইছুঁই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। রফতানি বন্ধ থাকায় কৃষকদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। দাগনোগোর মতো অনেক সমবায়ী এখন সরকারি কফি ও কোকো কাউন্সিলের (সিসিসি) হস্তক্ষেপের অপেক্ষা করছেন।

২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমের শুরুতে আইভরি কোস্ট সরকার কোকোর সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য (ফার্মগেট প্রাইস) প্রতি কেজি ২ হাজার ৮০০ সিএফএ ফ্রাঁ (৫ ডলার ৯ সেন্ট) নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে পণ্যটির দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে যায়।

রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত দামে কোকো কেনা তাদের জন্য লাভজনক নয়।

আইভরি কোস্টের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত মূল্যের কমে কোকো কেনা নিষিদ্ধ হলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। রেমিপ্রো গ্রামের কৃষক ফ্রেডেরিক কুয়াসি জানান, অনেক ক্রেতা কেজিপ্রতি মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ সিএফএ ফ্রাঁ অফার করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনো বিকল্প নেই। অর্থের অভাবে আমরা বাধ্য হয়ে কম দামেই কোকো বিক্রি করে দিচ্ছি। সামনেই এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মৌসুমের মধ্য ফসলের সরবরাহ আসবে। তার আগে পুরনো মজুদ না সরালে গুণমান নষ্ট হওয়ার ভয় আছে।’

মজুদ কোকোর গুণমান বজায় রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল করতে গত জানুয়ারিতে আইভরি কোস্টের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক লাখ টন কোকো সরাসরি ক্রয়ের একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশে গুদামজাত করায় কোকোর মান কমে যাওয়ার শঙ্কায় চলতি মাসে এ ক্রয় প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা হয়েছে। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আশ্বস্ত করেছে, তারা সমবায়ীদের কাছ থেকে অবিক্রীত পণ্য কিনে নেবে।

আরও